আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে শব্দচয়ন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা কেবল শিষ্টাচার নয়, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মিয়ামির ভাষণ আবারও প্রমাণ করল যে, সস্তা জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক আধিপত্য জাহির করতে গিয়ে তিনি বারবার কূটনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করছেন।
সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজকে নিয়ে তার অশালীন শব্দচয়ন এবং সৌদির ‘আনুগত্য’ নিয়ে করা মন্তব্য কেবল ঔদ্ধত্যেরই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি এক বিপজ্জনক রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে এসেছে বাদশাহ সালমানের শারীরিক অবস্থার কথা এবং তাকে সম্মান জানাতে গিয়ে বাদশাহর উঠে দাঁড়ানোর ব্যক্তিগত কষ্ট। একজন বয়োজ্যেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধানের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে নিয়ে জনসভায় উপহাস করা বা অশালীন শব্দ ব্যবহার করা কোনোভাবেই একজন দায়িত্বশীল নেতার পরিচয় হতে পারে না।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রভাবে সৌদি আরব ‘অবাক’ এবং তাকেই দেশটির সব কৃতিত্ব দিতে হবে। এই ধরনের ‘ত্রাতা’ সুলভ মানসিকতা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গাকে বিষিয়ে তোলে।
সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দশকের পর দশক ধরে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর টিকে আছে। কিন্তু ট্রাম্পের মতো নেতারা যখন কোনো রাষ্ট্রকে কেবল তাদের ব্যক্তিগত অনুগ্রহের পাত্র হিসেবে উপস্থাপন করেন, তখন তা সেই দেশের জনগণের আত্মমর্যাদায় আঘাত হানে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে সৌদি বাদশাহর একটি আলাদা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মর্যাদা রয়েছে, যা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য শুভ নয়।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেছেন, তার আসার আগে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘মৃত দেশ’ ছিল। এই চরম আত্মম্ভরিতা কেবল তার নিজের দেশের পূর্বসূরিদের অপমান নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষ অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। শক্তি প্রদর্শন মানেই অহংকার নয়, বরং শক্তির সাথে দায়িত্বশীল আচরণই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়।
পরিশেষে বলা যায়, ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে ছোট করা বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা কোনো কার্যকর কূটনীতি হতে পারে না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ঝড় তোলেনি, বরং এটি বিশ্বনেতাদের কাছে একটি ভুল বার্তা দিচ্ছে। সুস্থ বিশ্বরাজনীতির স্বার্থে এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অবসান ঘটা জরুরি। মর্যাদা কেবল একতরফা নয়, তা অর্জন করতে হয় পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে।
সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে...