চলমান ইরান যুদ্ধে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ন্যাটো মিত্ররা এগিয়ে না আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিত্রদের এই নিষ্ক্রিয়তাকে 'বোকামি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলারের সহায়তার সুফল ভোগ করলেও প্রয়োজনে ইউরোপীয় মিত্ররা আমেরিকার পাশে দাঁড়াচ্ছে না। হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই, তবে মিত্রদের সেখানে থাকা উচিত ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও পণ্য চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো এই যুদ্ধে জড়াতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সংঘাত তাদের নয় এবং হরমুজ প্রণালি সচল করার কোনো সামরিক অভিযানে তারা অংশ নেবেন না। যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধে সহায়তা না করায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারেরও কড়া সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এদিকে, খোদ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ভেতরেও এই যুদ্ধ নিয়ে বড় ধরনের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। ইরান আমেরিকার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না, এমন দাবি করে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট। তবে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসী গ্যাবার্ড প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, তেহরান থেকে বড় ধরনের হুমকির সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান ও এর মিত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের তেল আবিবের কাছে ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কাতার ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করেও ইরান হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তাদের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি এবং বাসিজ মিলিশিয়া প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন।
সার্বিক এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখনই কোনো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নিজের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হাঁটু গেড়ে বসে পরাজয় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তির কোনো সুযোগ নেই। গত মাসে বিমান হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার সময় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছিলেন বলে খবর রয়েছে, যার কারণে এই বৈঠকে তাঁর সশরীরে উপস্থিতি নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে।
সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে...