সাম্প্রতিক সময়ে নির্ধারিত ৯ মাস বয়সের আগেই শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসের আক্রমণ শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে পদক্ষেপই পারে এই ঝুঁকি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে।
১. কেন টিকার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা?
সাধারণত শিশুরা জন্মের পর মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডির মাধ্যমে কিছুকাল সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু ৬ মাস বয়সের পর এই সুরক্ষাকবচ দুর্বল হতে শুরু করে। যেহেতু হামের প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়, তাই মাঝখানের এই সময়টিতে (৬ থেকে ৯ মাস) শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। বিশেষ করে জনবহুল পরিবেশ ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
২. লক্ষণ: কখন সতর্ক হবেন?
হামের প্রাথমিক উপসর্গগুলো সাধারণ সর্দি-কাশির মতো মনে হলেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি:
* তীব্র জ্বর।
* চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও নাক দিয়ে পানি পড়া।
* টানা কাশি।
* শরীরে ছোট ছোট লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ।
৩. শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের ৫টি জরুরি পরামর্শ
শিশুর জীবন রক্ষায় অভিভাবকদের নিচের বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা:
* সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা: হাম বাতাসবাহিত রোগ। তাই বাড়িতে বা আশেপাশে কেউ আক্রান্ত হলে শিশুকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখুন।
* বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই: মায়ের দুধ শিশুর শরীরে প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। অন্তত ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে একচ্ছত্র বুকের দুধ খাওয়ান এবং এরপরও নিয়মিত চালিয়ে যান।
* পরিচ্ছন্নতা ও বায়ুচলাচল: শিশুর কাপড়, খেলনা ও বিছানা নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। ঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করে তা নিশ্চিত করুন।
* জনসমাগম পরিহার: যেখানে মানুষের ভিড় বেশি বা রোগ ছড়ানোর ভয় আছে, সেখানে ছোট শিশুকে নিয়ে না যাওয়াই শ্রেয়।
* সময়মতো টিকাদান: শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই কোনো বিলম্ব না করে হামের প্রথম ডোজ দিন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে টিকা নেওয়াই সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার।
৪. অবহেলা করলে কী হতে পারে?
হামকে সাধারণ জ্বর ভাবা মারাত্মক ভুল হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি শিশুর শরীরে জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে:
* নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট।
* দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও পুষ্টিহীনতা।
* মস্তিষ্কে সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস), যা জীবনঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
৫. সচেতনতাই শ্রেষ্ঠ প্রতিরোধ
হামের লক্ষণ দেখা মাত্রই কোনো ঘরোয়া প্রতিকারের আশায় বসে না থেকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
> বিশেষজ্ঞের কথা: "সামান্য অসতর্কতা শিশুর জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। আপনার সচেতনতাই আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখবে।"
সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে...