বিমান তখন গভীররাতে জর্জিয়ার আকাশ অতিক্রম করছিল। এমন সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ইতালি থেকে ঢাকাগামী তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি বিমানের যাত্রী বড়লেখা পৌরশহরের বাসিন্দা রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফখরুল ইসলাম। বিমানটি তখন জরুরি অবতরণ করে তাকে দ্রুত জর্জিয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ভোর রাতে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। তিনি পিতা মাতা ও অসংখ্য আত্মীয় শুভাকাঙ্ক্ষী স্বজন রেখে গেছেন।
দীর্ঘ সাত বছর ইতালিতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে পরিবারের কাছে ফিরছিলেন প্রবাসী ফখরুল ইসলাম। কিন্তু প্রিয়জনদের সঙ্গে আর দেখা হলো না তার। দেশে ফেরার পথে বিমানে অসুস্থ হয়ে জর্জিয়ায় জরুরি অবতরণ করানো হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত ফখরুল ইসলাম মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরশহরের মহুবন্দ গ্রামের আব্দুল অকিদের ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা এখন প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ইতালিতে বসবাস ও কর্মজীবন শেষে ফখরুল ইসলাম তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফিরছিলেন। আকাশপথে পথে বিমানের মধ্যেই তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিমানটি জর্জিয়ায় জরুরি অবতরণ করে। সেখানে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ফখরুলের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বড়লেখা জুড়ে শোক বিহ্বল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী গভীর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণে বছরের পর বছর প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করা এই রেমিট্যান্সযোদ্ধার নিথর দেহই এখন ফিরছে জন্মভূমিতে।
ফখরুল ইসলামের মামা লাল মিয়া জানান, মঙ্গলবার সকালে তারা জর্জিয়া থেকে মৃত্যুর খবর পান। বর্তমানে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
তিনি এ বিষয়ে সরকারের, বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে...