লন্ডনে বসবাসরত বৃটিশ-বাংলাদেশীদের গৌরব ও সংগ্রামের অর্ধ-শতাব্দীর ইতিহাস এবার জীবন্ত হয়ে উঠছে মঞ্চে। আগামী “৪ জুলাই, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায়” পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক টয়েনবী হলে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে বিশেষ নাটক“উই স্টেইড” (We Stayed)।
কমিউটি সংগঠন ইস্টএন্ড কানেকশন -এর উদ্যোগে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল লটারি হেরিটেজ ফান্ডের অর্থায়নে এই অনন্য আয়োজন করা হয়েছে।
🎭 নাটকের প্রেক্ষাপট ও মূল ভাবনা
ড. মোহাম্মদ আহমদ উল্লাহ’র গল্প অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন ড. ক্যানান সালিহ। এই নাটকে “১৯৫০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত” দীর্ঘ ৫০ বছরে বৃটিশ-বাংলাদেশীদের জীবন-সংগ্রাম, বর্ণবাদবিরোধী লড়াই, টিকে থাকার স্বপ্ন এবং আজকের সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
📚 ‘স্টোরিজ অব স্ট্রাগলস অ্যান্ড স্ট্রাইডস’ প্রজেক্ট
মূলত বৃটিশ-বাংলাদেশীদের ইতিহাস সংরক্ষণে ইস্টএন্ড কানেকশন‘স্টোরিজ অব স্ট্রাগলস অ্যান্ড স্ট্রাইডস’শীর্ষক একটি মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এই প্রজেক্টের অংশ হিসেবেই নাটকটি মঞ্চায়িত হচ্ছে। শুধু নাটকই নয়, এই প্রজেক্টের অধীনে বৃটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির আন্দোলন ও সমাজ গঠনের ইতিহাস নিয়ে একটি ৭০০ পৃষ্ঠার ইতিহাসগ্রন্থ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। আগামী “১৪ সেপ্টেম্বর” বইটি আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ: এই ঐতিহাসিক গ্রন্থের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ১২ জন তরুণ-তরুণীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহ, গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা প্রবীণ কমিউনিটি নেতা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং সেসময় বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়ানো অ-বাংলাদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন।
ইস্টএন্ড কানেকশন এর সেক্রেটারি বদরুল আলম বলেন, "৭০ ও ৮০-এর দশকে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশিরা ভয়াবহ বর্ণবাদী হামলা, দারিদ্র্য, নিম্নমানের আবাসন ও সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেসব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংগঠিত আন্দোলন করেই আজকের বহুসাংস্কৃতিক টাওয়ার হ্যামলেটস গড়ে উঠেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই ইতিহাসের বড় অংশ এখনো অলিখিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের সংখ্যাও দিন দিন কমছে। তাই এই স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ধরে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।"
সংগঠনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, "হেরিটেজ ফান্ডের অনুদান পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ইস্টএন্ড কানেকশন সবসময় তৃণমূলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দক্ষতা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার জন্য আমরা ন্যাশনাল লটারি ও হেরিটেজ ফান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"
বৃটিশ-বাংলাদেশী কমিউনিটির শেকড় সন্ধানী এই অনন্য আয়োজনটি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলেই সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে...