বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে নির্বাচন মানেই যেন এক অস্থিরতা, সংঘাত আর স্বচ্ছতা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন। উন্নত থেকে উন্নয়নশীল—সব দেশেই প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থা যখন ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই "নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের বৈশ্বিক পরিকল্পনা" শিরোনামে একটি যুগান্তকারী ফর্মুলা নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের সিনিয়র সিটিজেন মো: হাসানুল আলম।
২০১৭ সালে কপিরাইট সংরক্ষিত হওয়া এই প্রযুক্তি-নির্ভর পরিকল্পনাটি সম্প্রতি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন বিষয় সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে। উদ্ভাবকের দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে বিশ্বজুড়ে নির্বাচনী সংঘাত ও কারচুপি চিরতরে বন্ধ হবে।
পরিকল্পনার মূল স্তম্ভ: প্রচারণার নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল ভোটিং
মো: হাসানুল আলমের এই বৈশ্বিক পরিকল্পনায় দুটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে:
১. নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পেশাদার প্রচারনা:
প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণা চালান, যা অনেক সময় সংঘাত ও অপপ্রচারের জন্ম দেয়। নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, প্রার্থীরা নিজেরা কোনো প্রচারণা চালাবেন না। পরিবর্তে, নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে সকল প্রার্থীর পক্ষে ডিজিটাল ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রচারণার দায়িত্ব নেবে। প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টো কমিশনের কাছে জমা দেবেন এবং কমিশন তা সমানভাবে প্রচার করবে। এর ফলে:
নির্বাচনী ব্যয় বহুগুণ কমে যাবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত ও অপপ্রচার বন্ধ হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং ভোটাররা নিরাপদ বোধ করবেন।
২. অ্যাপ-ভিত্তিক ডিজিটাল ভোটিং ব্যবস্থা:
সশরীরে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার পরিবর্তে একটি আধুনিক ভোটিং অ্যাপ ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোটাররা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে ভোট দিতে পারবেন।
এর সুফলগুলো হলো:
শূন্য সংঘাত: ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না।
বিশাল খরচ সাশ্রয়: ১৫-২০ লাখ জনবল নিয়োগ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং নির্বাচনী উপকরণের বিশাল খরচ আর লাগবে না।
নির্ভুল ফলাফল: মানুষের পরিবর্তে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন যন্ত্র বা প্রযুক্তি ভোট গণনা করবে, ফলে কারচুপির কোনো সুযোগ থাকবে না।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্যোগ
উদ্ভাবক মো: হাসানুল আলম তার এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাটি ২০১৭, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে পেশ করেছেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কমিশন থেকে এখনো কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত বা সাড়া মেলেনি।
হাল না ছেড়ে তিনি এই পরিকল্পনাটি জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছেও পাঠিয়েছেন। তার প্রস্তাব হলো—জাতিসংঘের মাধ্যমে এই পরিকল্পনাটি নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে বিশ্বের সকল দেশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক। এতে বাংলাদেশ যেমন মেধা-স্বত্ব বা রয়্যালটির মাধ্যমে লাভবান হবে, তেমনি বিশ্ববাসী পাবে একটি নিরাপদ ও সংঘাতমুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ।
উদ্ভাবকের বক্তব্য
পরিকল্পনাকারী মো: হাসানুল আলম দাবি করেন, "বর্তমান প্রচলিত নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রার্থী, ভোটার এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অনেক দেশে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত শুরু হয়েছে। আমার এই প্রযুক্তি-নির্ভর পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সারা বিশ্বে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।"
বিশ্বজুড়ে যখন গণতন্ত্র আর নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন একজন বাংলাদেশি নাগরিকের এমন দূরদর্শী পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে কতটা সমাদৃত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে...