দেশে পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষক পর্যায়ে নতুন করে আরও ১৫ হাজার ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ বিতরণের ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয় এবং আমদানির প্রয়োজন দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই সরকার সংরক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে জোর দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পেঁয়াজ সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে, ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ সফলতার ধারাবাহিকতায় এবার আরও ১৫ হাজার মেশিন বিতরণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ফসলের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা (পোস্ট-হারভেস্ট ম্যানেজমেন্ট) শক্তিশালী করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কারণ সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়, যা বাজারে সরবরাহ কমিয়ে মূল্য অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে এই অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য ধীরে ধীরে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনীয়তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। এজন্য উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত জাতের সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ফ্লো মেশিনের ব্যবহার বাড়লে পেঁয়াজের পচন কমবে, কৃষকরা দীর্ঘ সময় ফসল সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং মৌসুম শেষে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। এর ফলে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে বাজারে সারা বছর পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় মূল্য স্থিতিশীল রাখতেও সহায়তা করবে।
বিগত দিনে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে: মুফতি...