সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে,যে কোনো মুহূর্তে স্বল্প মেয়াদি আকস্মিক বন্যার আশংকায় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জেলা প্রশাসন।
উজানে ভারি বৃষ্টির প্রভাবে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতে বন্যা ও যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে সিলেট জেলা তথ্য অফিস। পাশাপাশি যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা প্রশাসন।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুসারে, গত কয়েকদিনে উজানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদ-নদীতে পাহাড়ি ঢলের চাপ তীব্র হয়েছে। এতে সিলেট জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে কিংবা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিজনিত সম্ভাব্য বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় সিলেট জেলা তথ্য অফিস সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত সড়ক প্রচার ও মাইকিং অব্যহত আছে। সময়মত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া এবং বন্যা ও বন্যা পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে এ প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এছাড়াও জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বন্যা পরবর্তী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জেলা তথ্য অফিসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে দুর্যোগ মোকাবিলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে।
সিলেটে যে কোনো বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনও প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১৩ টি উপজেলায় ৫৭৫ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার ৩১৯ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১ হাজার ২৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য, ৪৮ বান্ডিল ঢেউটিন, জিআর চাল ১৭৫ মেট্রিক টন, নগদ অর্থ ১০ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৪১০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, সিলেট জেলার মোট ১০৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে।
এছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলায় জরুরী ওষুধ, খাবার স্যালাইন (২ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ প্যাকেট), পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট (১ লাখ ৪২ হাজার ২০০), কলেরা স্যালাইন (১০ হাজার ২১৫ প্যাকেট), এন্টি-স্নেকভেনম (১৭৬ ভায়াল) সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং সকলকে কর্মস্থলে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, উদ্ভূত বন্যা পরিস্থতিতে সিলেট জেলায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি সংগঠিত হয়নি। এছাড়া জেলার কোথাও পাহাড়ধস, ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস কিংবা ভূমিধসে কেউ আহত বা নিহত হয়নি।
এদিকে, সিলেটে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর।পাউবো সিলেট অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৯ টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে সিলেট পয়েন্টে গেল ২৪ ঘন্টায় ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার সমানস্তরে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে পানি বাড়লেও শেওলা ও শেরপুর পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
এছাড়া সারি,গোয়াইন, পিয়াইন, লোভা ও ধলাই নদীর পানিও কিছুটা বেড়ে এখন নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটে আগামী ২৪ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে বিভাগের অনেক স্থানে মাঝারি ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
রাত ১০ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় সিলেটে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার পাঠানো ২৪ ঘণ্টার
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সকাল ৯টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে ৯৬ শতাংশে পৌঁছায়।
গত ২৪ ঘণ্টায় (২২ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত) সিলেটে ১৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত আরও ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে, সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, ভারতের আসামের বন্যার পানি নামছে। যে কারণে সুরমা ও কুশিয়ারায় পানি বেড়েছে।
তবে আপাতত নতুন করে সিলেট কিংবা ভারতের আসাম, মেঘালয়ে ভারি বর্ষনের কোন পূর্বাভাস নেই।
বর্ষণ শুরু হলে সিলেটে বন্যার আশংকা রয়েছে।
বিগত দিনে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে: মুফতি...