পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের ঢাকা কনসার্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দেশের সংগীতাঙ্গনে। কনসার্টের আগেই এ আয়োজন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মুহিন খান। তার অভিযোগ, বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন হলেও দেশের শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান দেওয়া হয় না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক ছবি প্রকাশ করে আয়োজকদের কঠোর সমালোচনা করেন মুহিন খান। পোস্টে তিনি দাবি করেন, কিছু আয়োজক দেশের সংগীতশিল্পীদের স্বার্থের চেয়ে বিদেশি শিল্পীদের ঘিরে ব্যবসায়িক আয়োজনেই বেশি আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশীয় শিল্পীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষার প্রশ্নে এসব আয়োজকদের কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায় না।
মুহিন খান আরও বলেন, বাংলাদেশের শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিদেশি শিল্পীদের জন্য বড় বাজেট, ব্যাপক প্রচারণা এবং বিশেষ আয়োজন করা হলেও দেশের শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই নিশ্চিত করা হয় না। তার মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের সংগীতশিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আরেকটি ভিডিও বার্তায়ও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী এ শিল্পী। তিনি বলেন, বিদেশি শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানোতে তার আপত্তি নেই, তবে দেশের শিল্পীদের অবমূল্যায়ন করে কোনো আয়োজন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিল্পীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন মুহিন খান। তার মতে, দেশের মানুষ যখন দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যস্ত, তখন এ ধরনের আয়োজনের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও দেশীয় শিল্পীদের টিকিয়ে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম ২৪ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য একটি কনসার্টে অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন। স্থগিত হওয়া এই কনসার্টটি নতুন তারিখে আয়োজন করা হচ্ছে এবং এটি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পীদের মর্যাদা ও সুযোগ নিয়ে নতুন বিতর্কও সামনে এসেছে।
বিগত দিনে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে: মুফতি...