বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে এই আমন্ত্রণকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রটি ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে এবং তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি অংশীদার ও আমন্ত্রিত দেশের সরকারপ্রধানদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং সংযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বাংলাদেশকে আরও সম্পৃক্ত করার একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ। একই সঙ্গে এটি দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
উল্লেখ্য, ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনৈতিক জোট। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্যোগে গঠিত এ জোটে পরবর্তীতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, মিসর, ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন সহযোগিতা, বহুপাক্ষিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বিত ভূমিকা রাখাই জোটটির মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, ভারতের আমন্ত্রণকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্মেলনে যোগ দিলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হতে পারে।
বিগত দিনে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে: মুফতি...