ব্রেকিং
news icon বিগত দিনে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে: মুফতি... news icon সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে চিকিৎসক দলের সাক্ষাৎ news icon সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারা বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে, বন্যার... news icon জাসদ থেকে জামায়াত, আলোচনার কেন্দ্রে গাজী নজরুলের দ... news icon বাজেট শুধু কাগজে নয়, মানুষের জীবনে বাস্তবায়নেই মিল... news icon চ্যাম্পিয়নের মতোই প্রত্যাবর্তন, জিম্বাবুয়েকে হারিয়... news icon পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে নতুন উদ্যোগ, কৃষকদে... news icon প্রক্সি ভাইভায় সরকারি চাকরি, আদালতের নির্দেশে রিমা... news icon সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরছেন স্পিকার হাফ... news icon বাংলাদেশ–মালদ্বীপ প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন গতি,... news icon বিদেশি শিল্পীর কনসার্টে কোটি টাকার আয়োজন, দেশীয় শি... news icon ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলেই সৌদির পারম... news icon ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান... news icon নৌবাহিনীর নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়... news icon বিশ্বকাপের পর ফুটবলের নতুন অধ্যায়, কবে মাঠে গড়াবে... news icon এক বছরের মধ্যে জুলাই গণহত্যার তদন্ত শেষের আশা চিফ... news icon বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৭ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো... news icon কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যুবকের ফাঁসির আদেশ news icon লন্ডনে সাগরের জোয়ারে ডুবে মা মেয়েসহ সিলেটের একই... news icon টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের মিল... news icon ২৯ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী মিন্টু মিয়া র‍্যাব... news icon রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন... news icon ২৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত... news icon যে কোনো মুহূর্তে আসতে পারে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘ... news icon জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্... news icon বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প... news icon দিল্লির আন্দোলনের ছোঁয়া, মুম্বাইয়ে সমাবেশে নিষেধাজ... news icon আরসিইপিতে সম্পৃক্ত হতে সিঙ্গাপুরের সমর্থন চেয়েছে ব... news icon দিল্লির বিক্ষোভস্থলে ব্যাপক পুলিশ, ইন্টারনেট বন্ধ,... news icon তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকাল সকাল বিশেষ ঘোষণা...

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যায় ২১০ কি.মি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত: মেরামতে লাগবে শত কোটি টাকা

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

Ajker Patrika

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যায় ২১০ কি.মি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত: মেরামতে লাগবে শত কোটি টাকা

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

সংযুক্ত ছবি

সংগৃহীত

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের। মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনে দুই জেলার অন্তত ২১০ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।

 ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক মেরামতে লাগবে শতকোটি টাকা। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট মেরামত ও পুনর্নির্মাণে প্রাথমিক হিসাবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন হবে।

 মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, ৪ উপজেলায় প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পাকা, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সড়ক পুরোপুরি তলিয়ে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও নদীর স্রোতে সড়কের অংশবিশেষ বিলীন হয়ে গেছে।

 উপজেলাগুলোর বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় বেশ কিছু সেতু ও কালভার্টও ভেঙে পড়েছে। অনেক এলাকায় পানি পুরোপুরি না নামায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এলজিইডি। 

কমলগঞ্জের বাসিন্দা সোনিয়া সায়মিন বলেন, ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। 

অন্যদিকে হবিগঞ্জেও বানের পানিতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী জেলার প্রায় ১১৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধস, বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। 

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জের বাসিন্দা শাহ তৌফিক এলাহী বলেন, খোয়াই নদীর ভাঙনে সড়কের খুব খারাপ অবস্থা হয়েছে। চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

 মানুষ এখন এই সড়ক এড়িয়ে দূরের অন্য পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আরিফ মিয়া বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যাত্রীরা এই পথে যেতে চান না, ফলে প্রতিদিন আয় কমছে।

 উল্টো গাড়ি মেরামতের পেছনে বাড়তি খরচ হচ্ছে। পিকআপ চালক আবুল হোসেন বলেন, পণ্য নিয়ে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বাড়ছে এবং অনেক বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও মিফতাহ উদ্দিন জানান, পানি নামলেও সড়ক ভাঙা থাকায় বাজারে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো কিংবা রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকরা। 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা দ্রুত গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন।

 তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে চিকিৎসা, শিক্ষা ও কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় স্থায়ী ক্ষতি তৈরি হবে। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, জেলায় এলজিইডির প্রায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামতে অন্তত ২৮ কোটি টাকা লাগবে। পানি পুরোপুরি নামলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। 

এলজিইডি হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী ১১৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে পুরোপুরি পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সংগৃহীত ছবি:
সংগৃহীত ছবি:

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের। মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনে দুই জেলার অন্তত ২১০ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।

 ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক মেরামতে লাগবে শতকোটি টাকা। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট মেরামত ও পুনর্নির্মাণে প্রাথমিক হিসাবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন হবে।

 মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, ৪ উপজেলায় প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পাকা, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সড়ক পুরোপুরি তলিয়ে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও নদীর স্রোতে সড়কের অংশবিশেষ বিলীন হয়ে গেছে।

 উপজেলাগুলোর বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় বেশ কিছু সেতু ও কালভার্টও ভেঙে পড়েছে। অনেক এলাকায় পানি পুরোপুরি না নামায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এলজিইডি। 

কমলগঞ্জের বাসিন্দা সোনিয়া সায়মিন বলেন, ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। 

অন্যদিকে হবিগঞ্জেও বানের পানিতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী জেলার প্রায় ১১৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধস, বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। 

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জের বাসিন্দা শাহ তৌফিক এলাহী বলেন, খোয়াই নদীর ভাঙনে সড়কের খুব খারাপ অবস্থা হয়েছে। চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

 মানুষ এখন এই সড়ক এড়িয়ে দূরের অন্য পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আরিফ মিয়া বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যাত্রীরা এই পথে যেতে চান না, ফলে প্রতিদিন আয় কমছে।

 উল্টো গাড়ি মেরামতের পেছনে বাড়তি খরচ হচ্ছে। পিকআপ চালক আবুল হোসেন বলেন, পণ্য নিয়ে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বাড়ছে এবং অনেক বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও মিফতাহ উদ্দিন জানান, পানি নামলেও সড়ক ভাঙা থাকায় বাজারে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো কিংবা রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকরা। 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা দ্রুত গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন।

 তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে চিকিৎসা, শিক্ষা ও কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় স্থায়ী ক্ষতি তৈরি হবে। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, জেলায় এলজিইডির প্রায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামতে অন্তত ২৮ কোটি টাকা লাগবে। পানি পুরোপুরি নামলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। 

এলজিইডি হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী ১১৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে পুরোপুরি পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত