বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দুঃসময় ও দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় থাকা ত্যাগী, নির্যাতিত ও সংগ্রামী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর মিরপুর থানা বিএনপির ১২ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম মিজী।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দলের কঠিন সময়ে বহু নেতাকর্মী মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার, জেল-জুলুম ও নানা ধরনের হয়রানি সহ্য করেও রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তাদের ত্যাগ ও অবদান কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি মিরপুর থানা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন দুলুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। কালাম মিজী বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে দুলু ভাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন করতে গিয়ে তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও নানা বাধা-বিপত্তি কোনো কিছুই তাকে রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, দলের কঠিন সময়ে হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন দুলুর পরিবারও নানা ধরনের হয়রানি ও সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। তার সহধর্মিণী স্বপ্না ভাবিও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে শারীরিক অসুস্থতার সময় যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মোহাম্মদ কালাম মিজী বলেন, শুধু হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন দুলু নন, সারা দেশের বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী দলের দুঃসময়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হয়েও দলের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য থেকে রাজপথে ছিলেন।
তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা দলের কঠিন সময়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং সংগঠনের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়েছেন, তাদের যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও মূল্যায়ন করা সাংগঠনিক দায়িত্ব।
একই সঙ্গে তিনি দলের মধ্যে সুবিধাবাদী, বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় না থেকেও কেউ কেউ পরবর্তীতে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মোহাম্মদ কালাম মিজী বলেন, “দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের অবদান কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। যারা ত্যাগী, সৎ, সাহসী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী—তাদের আর্থিক অবস্থান নয়, বরং রাজনৈতিক ত্যাগ, যোগ্যতা, সততা ও সাংগঠনিক অবদান বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “স্রোতের সঙ্গে কচুরিপানা ভেসে যেতে পারে, কিন্তু যারা সত্য ও নীতির পথে অবিচল থেকে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন, তাদের মূল্যায়নই সবচেয়ে বেশি হওয়া উচিত।”
সম্প্রতি যারা জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদেরও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, তৃণমূলের কর্মীদের শ্রম, ত্যাগ, রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়েই অনেক নেতা আজ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাই তাদের অবহেলা না করে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তাদের পাশে থাকা উচিত।
মোহাম্মদ কালাম মিজী বলেন, “এক মাঘে শীত যায় না। রাজনীতি করতে হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে যেতে হবে। যারা দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, তাদের ভুলে গেলে চলবে না।”
বিবৃতির শেষাংশে তিনি মিরপুর থানা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন দুলুকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে একজন কর্মীবান্ধব ও ত্যাগী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুলু ভাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ও অভিভাবকতুল্য নেতা।
হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন দুলুসহ মিরপুর থানা বিএনপির সকল সংগ্রামী নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়া জানিয়ে মোহাম্মদ কালাম মিজী বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অতীতের কষ্ট ও অবদান উপলব্ধি করে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে—এটাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা।
বিগত দিনে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে: মুফতি...