ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার কাসেমিরোকে দলে ভেড়ানোর পরই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামি। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নিয়ম ভঙ্গ করে এই চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে লিগ কর্তৃপক্ষ। ফলে মাঠের বাইরের এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে আলোচিত এই ক্লাবটি।
বুধবার (২২ জুলাই) কাসেমিরোর সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দেয় ইন্টার মায়ামি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ক্লাবটিতে যোগ দেন ব্রাজিলের এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি করেছে মেসির ক্লাব। ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে আনন্দের সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসে তদন্ত শুরুর খবর।
এমএলএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাসেমিরোকে দলে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে লিগের খেলোয়াড় অধিগ্রহণসংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তদন্তের মূল বিষয় হচ্ছে এমএলএসের ‘ডিসকভারি রাইটস’ নীতি। এই নিয়ম অনুযায়ী, লিগের বাইরে থাকা কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনায় এগোনোর আগে সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, কাসেমিরোর সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তির ক্ষেত্রে ইন্টার মায়ামি সেই নিয়ম পুরোপুরি মানেনি। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে ক্লাবটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
গত কয়েক বছরে মেসিকে দলে ভেড়ানোর পর থেকে একের পর এক বিশ্বমানের ফুটবলারকে দলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। সার্জিও বুসকেটস, জর্দি আলবা, লুইস সুয়ারেজ এবং সম্প্রতি রদ্রিগো ডি পলের পর এবার যোগ দিলেন পাঁচবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী কাসেমিরো। ফলে ক্লাবটির তারকাবহুল স্কোয়াড আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরো দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন। স্প্যানিশ ক্লাবটির জার্সিতে তিনি পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, তিনটি লা লিগা এবং একাধিক শিরোপা জিতেছেন। ২০২২ সালে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পরও নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে সহায়তা করেছেন। এখন ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে।
তবে এই আলোচিত ট্রান্সফারের পরই তদন্ত শুরু হওয়ায় ক্লাবটির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। যদি তদন্তে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে এমএলএস ইন্টার মায়ামির বিরুদ্ধে জরিমানা, খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা কিংবা লিগের বিধিমালা অনুযায়ী অন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নয় লিগ কর্তৃপক্ষ।
মাঠে নতুন মৌসুমের চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি এখন মাঠের বাইরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে মেসির ইন্টার মায়ামিকে। তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে কাসেমিরোর এই বহুল আলোচিত দলবদলকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের ভবিষ্যৎ।
বিগত দিনে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে: মুফতি...